বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম
বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিপ্লব এসেছে বিকাশের মাধ্যমে। শহর থেকে গ্রাম-প্রতিটি এলাকায় এখন লেনদেনের বড় মাধ্যম bKash। বিকাশ সর্ম্পকে জানেনা বা বিকাশ এর সাথে জড়িত নয় এমন মানুষ বর্তমান সময়ে কঠিন।
বিকাশ এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অবিচ্ছিদ্য অংশ।আমাদের জীবনে নিত্যদিনের কাজে বিকাশ ব্যবহার করে এক নিষেয় করতে পারি যেমন- টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি।ফলে বিকাশ এজেন্ট হওয়া আজ একটি স্থায়ী আয়ের বড় সুযোগ।
পেজ সুচিপত্রঃ বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম
- বিকাশ এজেন্ট কে?
- কেন বিকাশ এজেন্ট হওয়া লাভজনক?
- বিকাশ এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা
- বিকাশ এজেন্ট হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম (স্টেপ–বাই–স্টেপ)
- বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে? (সম্ভাব্য খরচ)
- বিকাশ এজেন্ট কত আয় করতে পারে?
- বিকাশ এজেন্টের করণীয় এবং বারণ
- সাধারণ ভুল যেগুলো করলে আবেদন বাতিল হয়
- বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট – FAQ (সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
- শেষকথাঃ বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশ এজেন্ট কে?
বিকাশ এজেন্ট হচ্ছে এমন একজন অনুমোদিত ব্যক্তি বা দোকানদার, যিনি গ্রাহকের
জন্য bKash-এর লেনদেন সেবা প্রদান করেন-
যেমন:
- Cash In
- Cash Out
- Send Money
- Mobile Recharge
- Payment
- Cash back / Commission-based services
এর মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক লেনদেনে কমিশন পান।
কেন বিকাশ এজেন্ট হওয়া লাভজনক?
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় তিনটি সুবিধা:
১) নিয়মিত ইনকাম
দিনে যত বেশি লেনদেন, আয় তত বেশি।
এজেন্ট কমিশন পায় ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন সেবায়।
২) নিজস্ব দোকানের গ্রাহক বৃদ্ধি
বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট থাকলে সেই দোকানে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর মানুষের আনাগোনা
হয়।
ফলে দোকানের অন্য পণ্যের বেচাকেনাও বৃদ্ধি পায়।
৩) নিম্ন বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু
বড় কোনো দোকান বা বড় বিনিয়োগের দরকার হয় না।
শুধু একটি ছোট দোকান, সিম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলেই যথেষ্ট।
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা
বিকাশ এজেন্ট হতে হলে কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।
১. বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাধ্যতামূলক।
২. বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর
ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী ১৮+ হতে হবে।
৩. দোকান বা ব্যবসা থাকতে হবে
নিজস্ব অথবা ভাড়ায় নেওয়া দোকান হতে পারে।
দোকানটি চলমান হতে হবে এবং স্থায়ী ঠিকানায় থাকতে হবে।
৪. ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে
যে দোকানে এজেন্ট পয়েন্ট হবে, সেই দোকানের নামে ট্রেড লাইসেন্স
থাকতে হবে।
৫. নিবন্ধিত সিম
আপনার নামে রেজিস্টার করা প্রিপেইড সিম প্রয়োজন
(রবি/গ্রামীণ/এয়ারটেল/বাংলালিংক)।
৬. ভালো সামাজিক সুনাম
বিকাশের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতি বা
মামলা থাকলে আবেদন বাতিল হতে পার।
আরোও পড়ুন ই- ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগ পোস্ট
বিকাশ এজেন্ট হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিকাশ এজেন্ট রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন:
. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
অরিজিনাল + ফটোকপি
. ট্রেড লাইসেন্স
দোকানের নামে বা আপনার নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স
. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
. দোকানের ছবি
দোকানের সামনে থেকে
ভিতরের ছবি
সাইনবোর্ডসহ ছবি
. দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্র (যদি ভাড়া দোকান হয়)
. নিবন্ধিত সিম কার্ড (আপনার নামে)
. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (ঐচ্ছিক, কিন্তু থাকা ভালো)
বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম (স্টেপ–বাই–স্টেপ)
বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম হলো-
ধাপ–১: নিকটস্থ বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর খুঁজে বের করা
বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো -
ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে যোগাযোগ করা।
প্রতিটি উপজেলায় বিকাশের নির্দিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন অফিস আছে।
সেখানে গিয়ে:
- ফর্ম সংগ্রহ
- তথ্য জমা
- ভেরিফিকেশন
- সব সরাসরি করা যায়।
ধাপ–২: আবেদনফর্ম পূরণ
আবেদনফর্মে যে তথ্য দিতে হয়:
- নাম
- বাবা/মায়ের নাম
- ঠিকানা
- দোকানের ঠিকানা
- ব্যবসার ধরন
- ফোন নম্বর
- NID নম্বর
- দোকানের ছবি
- সিম তথ্য
সব তথ্য সঠিক ও মিল থাকতে হবে।
ধাপ–৩: কাগজপত্র জমা ও যাচাই
আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র ডিস্ট্রিবিউশন অফিস যাচাই করবে।
তারা আরও দেখবে:
- দোকানের অবস্থান
- দোকানের ভিড়
- এলাকার জনসংখ্যা
- কতজন এজেন্ট আগে আছে
- আপনি এজেন্ট হওয়ার উপযুক্ত কিনা
যদি দোকান ব্যস্ত এলাকায় হয়, অনুমোদন দ্রুত হয়।
ধাপ–৪: অ্যাকাউন্ট খোলা ও এজেন্ট সিম অ্যাক্টিভেশন
সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে দেওয়া হবে:
. এজেন্ট সিম
যার মাধ্যমে লেনদেন করবেন
. এজেন্ট আইডি
আপনার অফিসিয়াল পরিচয়
. পাসকোড
Agent App/USSD ব্যবহারের জন্য
এই সিমটি সাধারণ সিমের মতো নয়-এটি বিশেষভাবে bKash লেনদেনের জন্য।
ধাপ–৬: লেনদেন শুরু ও প্রশিক্ষণ
অনুমোদন পেলে:
- Agent App ব্যবহার শেখানো হবে
- Fraud Prevention Training দেওয়া হবে
- কমিশন কিভাবে পাবেন তা বোঝানো হবে
এরপর আপনি লেনদেন শুরু করতে পারবেন।
আরোও পড়ুনঃ ই- ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগ পোস্ট
বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে? (সম্ভাব্য খরচ)
অনেকেই মনে করেন এজেন্ট হতে অনেক টাকা লাগে-
আসলেই বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট বানাতে কোনো চার্জ লাগে না, কিন্তু কিছু খরচ
থাকা দরকার:
. দোকান সাজানো - ৫০০-২০০০ টাকা
(সাইনবোর্ড, পোস্টার, লাইট ইত্যাদি)
. প্রাথমিক ক্যাশ - ১০,০০০-৫০,০০০ টাকা
লেনদেন চালানোর জন্য
. সিম/পেপার/অন্যান্য -২০০-৫০০ টাকা
মোটামুটি ১০-৫০ হাজার টাকা থাকলেই শুরু করা যায়।
বিকাশ এজেন্ট কত আয় করতে পারে?
এজেন্টদের আয়ের প্রধান উৎস:
. ক্যাশ আউট কমিশন
প্রতি ১,০০০ টাকায় কমিশন পাওয়া যায়
. ক্যাশ ইন কমিশন
কম হলেও থাকে
. রিচার্জ কমিশন
মোবাইল রিচার্জে কমিশন পান
. পেমেন্ট কমিশন
মাসিক আয় কত হতে পারে?
এটি নির্ভর করে:
- লেনদেন সংখ্যা
- লোকেশন
- দোকানের ব্যস্ততা
- আপনার কাজের সময়
একজন নতুন এজেন্ট মাসে ৮,০০০-১৫,০০০ টাকা সহজেই আয় করতে পারে।
ভালো লোকেশনে আয় হতে পারে ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা+
বিকাশ এজেন্টের করণীয় এবং বারণ
করণীয়
- সবসময় রসিদ দিন
- গ্রাহকের NID বা OTP চেক করুন
- প্রতারণা প্রতিরোধে সতর্ক থাকুন
- দোকান খোলা রাখুন
- Agent App ব্যবহারে অভ্যস্ত হন
বারণ
- নিজের পিন কাউকে বলবেন না
- ভুয়া লেনদেন করবেন না
- গ্রাহকের টাকা নিজের বলে ব্যবহার করবেন না
- অবৈধ কোনো কাজ করবেন না
সাধারণ ভুল যেগুলো করলে আবেদন বাতিল হয়
১. ভুল NID তথ্য
২. জাল ট্রেড লাইসেন্স
৩. দোকান না থাকা
৪. দোকান বন্ধ পাওয়া
৫. আগের এজেন্টের সঙ্গে সমস্যা থাকা
৬. প্রতারণার অভিযোগ
এগুলো অবশ্যই এড়াতে হবে।
আরোও পড়ুনঃ ই- ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগ পোস্ট
বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট – FAQ (সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম কথাটি ভাবলেই যেই প্রশ্নগুলো আমাদের মাথায় আসে তা হলো-
এজেন্ট হতে কি টাকা লাগে?
না। তবে ব্যবসা চালানোর জন্য ক্যাশ দরকার হয়।
. দোকান ছাড়া কি এজেন্ট হওয়া যায়?
না, দোকান থাকা বাধ্যতামূলক।
. কত দিনে অনুমোদন পাওয়া যায়?
সাধারণত ২–৭ দিনের মধ্যে।
. কোন সিমে এজেন্ট অ্যাকাউন্ট চলে?
ডিস্ট্রিবিউটার যেই সিম দেবেন- সেটিতেই।
. বেকার ব্যক্তি কি এজেন্ট হতে পারে?
হ্যাঁ, দোকান থাকলে পারে।
. বাড়িতে কি এজেন্ট করা যায়?
যদি সেটিকে দোকান হিসেবে নিবন্ধন করা যায়- হ্যাঁ।
শেষকথাঃ বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশ এজেন্ট হওয়া ২০২৫ সালে একটি ভবিষ্যৎ-নির্ভর এবং লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগ।
ছোট বিনিয়োগে, কম পরিশ্রমে, প্রতিদিনের প্রচুর গ্রাহক পেতে পারেন।যদি আপনার
দোকান ব্যস্ত এলাকায় থাকে, এবং আপনি নিয়মিত সময় দোকান খোলা রাখেন-
তাহলে মাসে ২০–৩০ হাজার টাকা আয় করাও সম্ভব।
লেখকের মতামত, আপনি যদি চান একজন বিকাশ এজেন্ট হতে তবে এই পোস্টে উল্লেখিত সব
কিছু জেনে বুঝে একজন বিকাশ এজেন্ট হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারেন। নিশ্চয় সঠিক
তথ্য জেনে কনো কাজ করতে হয় নয়তবা সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের এই পোস্ট পড়ে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সর্ম্পকে ভালো ধরনা পাবেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url