ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ভ্রমণ, স্টাডি বা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া সবসময়ই জনপ্রিয়।
কিন্তু ইউরোপিয়ান দেশগুলোর ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ
একটি নির্ভরযোগ্য ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ থেকে সার্ভিস নেন।
কারণ ইউরোপে প্রবেশের জন্য সাধারণত লাগে শেনজেন ভিসা, এবং শেনজেন ভিসার
ডকুমেন্টেশন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ভ্রমণ পরিকল্পনা, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, ব্যাংক
স্টেটমেন্ট, কভার লেটার—সবকিছু সঠিক ও পেশাদারভাবে করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা
অনেক বেড়ে যায়।
পেজ সুচিপত্রঃ ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ পোস্টটিতে আমরা যা যা জানতে পাড়বো
- ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ-কেন প্রয়োজন?
- ইউরোপ (শেনজেন) ভিসার ধরন
- ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ-কিভাবে নির্বাচন করবেন?
- ইউরোপ ভিসা করতে কত খরচ হয়?
- ইউরোপ ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
- ইউরোপ ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারণ
- কীভাবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন?
- প্রতারণামূলক এজেন্সি চেনার উপায়
- ইউরোপ ভিসা নিজে করা ভালো নাকি এজেন্সি দিয়ে?
ইউরোপের ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ-কেন প্রয়োজন?
অনেক ভাবতে পারেন - নিজে নিজেই তো ভিসা আবেদন করা যায়!হ্যাঁ, আবেদন করা যায়।
তবে ইউরোপ বা শেনজেন ভিসা এমন যে -
- ছোট একটি ভুল ডকুমেন্ট
- ভুল ট্রাভেল প্ল্যান
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট সঠিক না হওয়া
- কভার লেটার ঠিকমতো লেখা না
- ভুল সময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা -
এগুলো করলে সরাসরি রিজেকশন আসতে পারে।
ইউরোপ (শেনজেন) ভিসার ধরন
বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য কিছু প্রধান শেনজেন ভিসার ধরন হলো:
১) Tourist Visa (Type C)
সবচেয়ে সাধারণ ভিসা। ঘুরতে যাওয়ার জন্য।
২) Business Visa
মিটিং, কনফারেন্স, ট্রেড শো, অফিসিয়াল কাজের জন্য।
৩) Student Visa (National Visa Type D)
দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার জন্য।
৪) Employment Visa
ইউরোপের কোম্পানি থেকে রিক্রুট হলে।
৫) Family Reunion Visa
স্বামী/স্ত্রী/সন্তান ইউরোপে থাকলে তাদের সাথে যোগ দেওয়া।
৬) Medical Visa
ইউরোপে চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে।
প্রতিটা ভিসার ডকুমেন্ট, খরচ এবং প্রক্রিয়া আলাদা।
এ কারণেই ভালো ভিসা এজেন্সি অনেক সময় জীবনকে সহজ করে দেয়।
আরোও পড়ুওঃ ই-ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগপোস্ট
ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ-কিভাবে নির্বাচন করবেন?
বাংলাদেশে অসংখ্য এজেন্সি আছে, কিন্তু সবার কাজ এক নয়।
সঠিক এজেন্সি নির্বাচন করার কিছু কৌশল রয়েছে:
১. লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন আছে কি না দেখুন
BTRC, ডোমেস্টিক ট্রাভেল লাইসেন্স বা ট্রাভেল অফিস ফিজিক্যাল লোকেশন
গুরুত্বপূর্ণ।
২. এজেন্সির রিভিউ ও রেটিং চেক করুন
Google Reviews, Facebook Page, ইউটিউব প্রতিক্রিয়া দেখুন।
৩. আগে কতগুলো শেনজেন ভিসা করেছে জিজ্ঞেস করুন
তাদের সাফল্যের হার বুঝতে পারবেন।
৪. কভার লেটার, ডকুমেন্টেশন কীভাবে করে-তা দেখে নিন
পেশাদার কভার লেটার ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বাড়তি টাকা দাবি করে কিনা দেখুন
ভালো এজেন্সি কখনো অতিরিক্ত টাকা দাবি করে না।
৬. ভিসা গ্যারান্টি দেওয়া এজেন্সি এড়িয়ে চলুন
সৎ এজেন্সি কখনো ১০০% গ্যারান্টি দেয় না।
৭. রিফান্ড নীতি আছে কিনা জেনে নিন
অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে বা সার্ভিস কম দিলে রিফান্ড নীতিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপ ভিসা করতে কত খরচ হয়?
খরচ নির্ভর করে:
- কোন দেশের ভিসা
- কোন ভিসার ধরন
- কোন এজেন্সির মাধ্যমে
তবে সাধারণত:
শেনজেন ট্যুরিস্ট ভিসা ফি:
- ভিসা ফি: ৮০ ইউরো
- VFS সার্ভিস চার্জ: ২০-৩০ ইউরো
বাংলাদেশি টাকায়:
১১,০০০ – ১৩,০০০ টাকা
এজেন্সি চার্জ:
.৫,০০০ - ১৫,০০০ টাকা (কাজের মান অনুযায়ী)
ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স:
.১,০০০ - ৩,০০০ টাকা
হোটেল + ফ্লাইট বুকিং (temporary booking):
.১,০০০ - ৩,০০০ টাকা
মোট খরচ:
.১৮,০০০ - ৩০,০০০ টাকা (এজেন্সিসহ)
যদি নিজে আবেদন করেন, খরচ আরও কম।
আরোও পড়ুওঃ ই-ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগপোস্ট
ইউরোপ ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
একটি সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য দরকার হয় -
- পাসপোর্ট (৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
- ২ কপি ছবি (বায়োমেট্রিক সাইজ)
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (৬ মাস)
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- চাকরি/ব্যবসার প্রমাণ
- NID / Birth Certificate
- ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary)
- ফ্লাইট বুকিং
- হোটেল বুকিং
- ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স
- কভার লেটার
যদি পরিবার নিয়ে যান -
বিবাহ সনদ,
ফ্যামিলি রিলেশনশিপ ইত্যাদি প্রয়োজন।
ইউরোপ ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারন
অনেকে সঠিক ডকুমেন্ট না থাকায় রিজেক্ট হন।
সাধারণ কারণগুলো হলো -
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট কম/সন্দেহজনক
- কভার লেটার দুর্বল
- ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়
- হঠাৎ বড় ডিপোজিট
- ভুল ট্রাভেল প্ল্যান
- নকল বা ভুল তথ্য
- ফ্লাইট/হোটেলের ভুল বুকিং
- ভ্রমণ ইতিহাস দুর্বল
- নিজের দেশে ফেরত আসার প্রমাণ নেই
একটি অভিজ্ঞ ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ এসব ভুল থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।
কীভাবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন?
.সঠিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট রাখুন
কমপক্ষে ২–৪ লাখ টাকা ব্যালেন্স ভালো।
.স্থায়ী চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ থাকুক
এটা দেখায় আপনি দেশে ফিরবেন।
. সঠিক কভার লেটার লিখুন
এজেন্সি দিয়ে করালে পেশাদার হয়।
. আগের ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে ভালো
দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড-এসব দেশের ভ্রমণ ইতিহাস ভিসার শক্তি
বাড়ায়।
. ট্রাভেল প্ল্যান বাস্তবসম্মত দিন
অতিমাত্রায় কম বাজেট বা অদ্ভুত পরিকল্পনা সন্দেহ সৃষ্টি করে।
প্রতারণামূলক এজেন্সি চেনার উপায়
বাংলাদেশে অনেক ভুয়া এজেন্সি আছে, যারা-
- গ্যারান্টি দিয়ে ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়
- নকল ডকুমেন্ট তৈরি করে
- অস্বাভাবিক কম দামে সার্ভিস দেয়
- নিজের অফিস দেখায় না
- টাকা নেওয়ার পর ফোন ধরেনা
এগুলো থেকে বাঁচতে -
- অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলুন
- চুক্তি বা রসিদ নিন
- গ্যারান্টি দিলে দূরে থাকুন
- Google Rating দেখুন
ইউরোপ ভিসা নিজে করা ভালো নাকি এজেন্সি দিয়ে?
নিজে করলে:
- খরচ কম
- সবকিছু নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন
- ভুল হওয়ার সুযোগ বেশি
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হতে পারে
এজেন্সি দিয়ে করলে:
- ডকুমেন্টস নিখুঁতভাবে তৈরি হয়
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিকভাবে হয়
- পেশাদার কভার লেটার
- ঝামেলা কম
- খরচ একটু বেশি আপনার সময়, অভিজ্ঞতা ও ডকুমেন্ট প্রস্তুতির ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
আরোও পড়ুওঃ ই-ট্রাস্ট আইটির অনান্য ব্লগপোস্ট
ইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ - সার্ভিসসমূহ
একটি ভালো এজেন্সি সাধারণত যে সার্ভিস দেয় -
- শেনজেন ভিসা কনসালটেশন
- ডকুমেন্ট চেকিং
- কভার লেটার রাইটিং
- ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি
- হোটেল/ফ্লাইট বুকিং
- ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স
- VFS অ্যাপয়েন্টমেন্ট
- ফাইল সাবমিশন গাইড
- ভিসা রিজেকশন পরামর্শ
শেষ কথাঃইউরোপ ভিসা এজেন্সি বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ভিসা পাওয়া কঠিন নয় - কিন্তু কাগজপত্র, কভার লেটার এবং
ডকুমেন্টেশন নিখুঁত না হলে রিজেকশন আসতে পারে। সঠিকভাবে গাইড করবে, ডকুমেন্ট
সাজিয়ে দেবে, ভিসার সফলতা বাড়াবে, ঝামেলা কমাবে। অতএব, সাবধানতার সাথে একটি
পেশাদার, রিভিউ-সমৃদ্ধ এবং বিশ্বস্ত এজেন্সি বেছে নিন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url