গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা
বর্তমানে অনেক ম্বাস্থ্য সচেতন মানুষ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম পানিতে লেবু খাওযার অভ্যাস গঢ়ে তুলেছেন। ওজন কমাতে, শরীর ডিটক্স করতে , হজম শক্তি বাড়াতে ত্বক ভালো রাখতে গরম পানিতে লেবু অনেক ভালো কাজ করে।তবে সব স্ব্স্থ্যকর অভ্যাস সবার জন্য সমান উপকারি নয়।
গরম পানিতে লেবু খাওয়ার যেমন উপকারীতা রয়েছে -তেমনই রয়েছে গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা যা অনেকেই জানেনা বা তেমন গুরুত্ব দেয় না। আজকের আরটিক্যালে আমরা গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা ও প্রয়োজনীয় সর্তকতা সর্ম্পকে জানবো।
পেজ সুচিপত্রঃ গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা পোস্টটিতে আমরা যা যা জানতে পাড়বো
- গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা
- গরম পানিতে লেবু খাওয়া কেন জনপ্রিয়
- দাঁতের এনামেল ক্ষয় এবং লেবু পানির প্রভাব
- গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াতে পারে
- পাকস্থলীর জ্বালা ও আলসারের ঝুঁকি
- অতিরিক্ত খেলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা
- যাদের গরম পানিতে লেবু খাওয়া এড়ানো উচিত
- সঠিক নিয়মে লেবু পানি খেয়ে ঝুঁকি কমানোর উপায়
- গরম পানিতে লেবুর বিকল্প স্বাস্থ্যকর পানীয়
- শেষকথাঃ গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা
গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা
বর্তমান সমাজের অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন প্রতিদিন গরম পানিতে লেবু
খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন যাদের মধ্যে হয়তো অনেকেই জানেন না গরম পানিতে লেবু
খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনই এর রয়েছে কিছু অপকারিতা। অনেকেই সেইসব
অপকারিতা সর্ম্পকে না জেনে প্রতনিয়ত গরম পানির সাথে লেবু পানি খেয়ে
চলেছেন।গরম পানির সাথে লেবু পানি খাওয়ার অপকারিতা যেমন-
প্রথমত, লেবুর উচ্চ অ্যাসিডিক উপাদান দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। নিয়মিত
খেলে দাঁতের ক্ষয় ও সংবেদনশীলতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, খালি পেটে অতিরিক্ত লেবু
পানি গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকে
পাকস্থলীর সমস্যা আছে। এছাড়াও, গলা ও খাদ্যনালিতে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে
পারে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেবু পানি খেলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা হজমের
সমস্যা দেখা দেয়।
সুতরাং, এই অভ্যাস শুরু করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। খুব গরম পানি ব্যবহার না
করা, লেবুর পরিমাণ সীমিত রাখা এবং খাবারের পর মুখ ধোয়া ক্ষতি কমাতে সাহায্য
করে। যারা গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা দাঁতের সংবেদনশীলতা আছে, তাদের অবশ্যই লেবু
পানি গ্রহণে সতর্ক হতে হবে।সঠিক নিয়মে লেবু পানি খেলে উপকার পাওয়া সম্ভব,
কিন্তু অতিরিক্ত ও অযথা খেলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
আরোও পড়ুনঃ
৩ দিনে ১০ কেজি ওজন কমানোর উপায়
গরম পানিতে লেবু খাওয়া কেন জনপ্রিয়
গরম পানিতে লেবু খাওয়া আজকাল অনেকের সকালে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো স্বাস্থ্যের নানা সম্ভাব্য উপকারিতা। প্রথমত,
লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই
সাধারণ জ্বর, ঠান্ডা বা শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে এটি বেশ কার্যকর মনে করা হয়।
দ্বিতীয়ত, সকালে খালি পেটে গরম লেবু পানি খেলে শরীরের হজম শক্তি বাড়ে এবং
পাকস্থলীর কার্যক্রমকে তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়। অনেকে এটিকে ডিটক্সের একটি
প্রাকৃতিক উপায় হিসেবেও ব্যবহার করেন, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে
সাহায্য করে।
তাছাড়া, গরম লেবু পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং এটির সতেজ সুবাস ও স্বাদ
মানুষের জন্য একটি মনোমুগ্ধকর অভ্যাস তৈরি করে। এছাড়াও, ওজন কমানোর আশায়
অনেকেই সকালে লেবু পানি পান করেন, কারণ এটি খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে
সাহায্য করতে পারে।এই সব কারণে গরম পানিতে লেবু খাওয়া বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা
পেয়েছে। তবে, এর অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে কিছু
স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা
হবে।
দাঁতের এনামেল ক্ষয় এবং লেবু পানির প্রভাব
লেবুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিড থাকে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের প্রধান
কারণ হতে পারে। গরম পানিতে লেবু খাওয়ার সময় এই অ্যাসিড সরাসরি দাঁতের সঙ্গে
সংস্পর্শে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে। দাঁতের
এনামেল ক্ষয় হলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং ঠান্ডা বা গরম খাবারের প্রতি
প্রতিক্রিয়া বাড়ে।
নিয়মিত লেবু পানি খাওয়ার ফলে দাঁতের রঙেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং
দাঁতের দাগ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষত খালি পেটে গরম লেবু পানি পান করলে
সমস্যা আরও তীব্র হয়, কারণ পাকস্থলীর অ্যাসিড ইতিমধ্যেই সক্রিয় থাকে।
এই ঝুঁকি কমানোর জন্য কয়েকটি সহজ নিয়ম মানা জরুরি। লেবু পানি খাওয়ার পর
মুখ ধোয়া, স্ট্র ব্যবহার করে পান করা, এবং লেবুর পরিমাণ সীমিত রাখা দাঁতের
স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, দিনে একবার বেশি না খাওয়াই
ভালো।
সর্বোপরি, যদিও লেবু পানি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে দাঁতের
এনামেল ক্ষয় প্রতিরোধে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সঠিক পদ্ধতি মেনে খেলে এই
ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াতে পারে
গরম পানিতে লেবু খাওয়া অনেকের সকালে অভ্যাস হলেও এটি সবার জন্য সমানভাবে
উপকারী নয়। বিশেষ করে যারা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন,
তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। লেবুর মধ্যে থাকা উচ্চ অ্যাসিডিক উপাদান
খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদন করতে
পারে।
এর ফলে বুক জ্বালা, পেট ফোলা, বদহজম বা পাকস্থলীর অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস আলসার বা গ্যাস্ট্রিক সংক্রান্ত জটিলতা
বাড়াতে পারে। গ্যাস্ট্রিক রোগীরা প্রায়শই অনুভব করেন যে লেবু পানি খাওয়ার
পর তাদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আরও তীব্র হয়।
ঝুঁকি কমানোর জন্য লেবু পানির পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত এবং খুব গরম পানি
ব্যবহার না করা ভালো। খালি পেটে লেবু পানি পান করার পরিবর্তে নাস্তার পরে বা
খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। এছাড়াও, অতিরিক্ত
অ্যাসিডি খাবারের সঙ্গে লেবু পানি মিশিয়ে খাওয়া নিরাপদ হতে পারে। সঠিক
নিয়মে লেবু পানি খেলে স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া সম্ভব, কিন্তু যারা
গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়া
প্রয়োজন।
পাকস্থলীর জ্বালা ও আলসারের ঝুঁকি
গরম পানিতে লেবু খাওয়া অনেকের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মনে হলেও, অতিরিক্ত
বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে পাকস্থলীর জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। লেবুর মধ্যে থাকা
প্রাকৃতিক অ্যাসিড পাকস্থলীর লিনিংকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা কিছু ব্যক্তির
জন্য জ্বালা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করে। যারা পূর্বে আলসার বা পাকস্থলীর
সংবেদনশীলতা নিয়ে ভুগেছেন, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি
হজমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে আলসারের সমস্যা বাড়াতে
পারে। গরম পানি লেবুর সঙ্গে থাকলে অ্যাসিডের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে, যার
কারণে গ্যাস্ট্রিক জ্বালা, বুক জ্বালা বা পেট ফোলা দেখা দিতে পারে।
ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা উচিত। লেবুর পরিমাণ সীমিত রাখা,
খুব গরম পানি ব্যবহার না করা এবং খাবারের সঙ্গে বা পরে পান করা নিরাপদ।
এছাড়াও, অতিরিক্ত অ্যাসিডি খাবারের সঙ্গে লেবু পানি একসাথে না খাওয়াই ভালো।
সুতরাং, গরম লেবু পানি স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য গ্রহণযোগ্য হলেও, যারা
পাকস্থলীর সংবেদনশীলতা বা আলসারে ভুগছেন, তাদের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা
জরুরি।
আরোও পড়ুনঃ পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
গলা ও খাদ্যনালিতে জ্বালাপোড়া সমস্যা
গরম পানিতে লেবু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হলেও, কিছু ক্ষেত্রে
এটি গলা এবং খাদ্যনালিতে জ্বালাপোড়া সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। লেবুর উচ্চ
অ্যাসিডিক উপাদান সরাসরি গলার সংবেদনশীল ত্বকের সঙ্গে সংস্পর্শে আসলে গলা
জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয় নিয়মিত খেয়ে থাকেন,
তাদের জন্য লেবু পানি আরও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি বাড়াতে পারে। গরম পানি লেবুর
সঙ্গে থাকলে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়, কারণ গরম পানির তাপ সহ অ্যাসিড মিলিত
হলে খাদ্যনালির সংবেদনশীলতা বাড়ায়।
এই সমস্যা কমানোর জন্য কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করা যায়। লেবু পানি খুব গরম না
করে, সীমিত পরিমাণে পান করা এবং স্ট্র ব্যবহার করে খাওয়া নিরাপদ। খাবারের
সঙ্গে বা পরে লেবু পানি গ্রহণ করলে গলা ও খাদ্যনালির উপর প্রভাব কম হয়।
সংক্ষেপে, লেবু পানি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, যারা গলার সংবেদনশীলতা বা
অ্যাসিড সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তাদের অবশ্যই খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা
উচিত। সঠিক নিয়মে গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অতিরিক্ত খেলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা
গরম পানিতে লেবু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, অতিরিক্ত খেলে শরীরের
উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা লেবু পানি নিয়মিত পান করেন,
তাদের মধ্যে কখনও কখনও বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা হালকা চক্কর ভাব দেখা দিতে
পারে। এর প্রধান কারণ হলো লেবুর উচ্চ অ্যাসিডিক উপাদান এবং শরীরের
পানিশূন্যতা।
খালি পেটে বা খুব বেশি পরিমাণে লেবু পানি খাওয়া পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন
বাড়ায়, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। কিছু
ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড রক্তে ক্ষারীয় ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে,
যার ফলে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার অনুভূতি হতে পারে।
ঝুঁকি কমানোর জন্য লেবু পানির পরিমাণ সীমিত রাখা, খুব গরম পানি ব্যবহার না
করা এবং দিনে একাধিকবার না খাওয়া উচিত। এছাড়া খাবারের সঙ্গে বা পরে লেবু
পানি গ্রহণ করলে শরীরের উপর প্রভাব অনেকটা কমানো যায়।
সুতরাং, গরম লেবু পানি স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য গ্রহণযোগ্য হলেও, অতিরিক্ত
খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক নিয়মে গ্রহণ করলে এই
ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
যাদের গরম পানিতে লেবু খাওয়া এড়ানো উচিত
গরম পানিতে লেবু খাওয়া সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু নির্দিষ্ট
শারীরিক অবস্থায় এই অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রথমত, যাদের গ্যাস্ট্রিক,
অ্যাসিডিটি বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গরম লেবু পানি ঝুঁকিপূর্ণ
হতে পারে। লেবুর অতিরিক্ত অ্যাসিড পাকস্থলীর জ্বালা ও ব্যথা বাড়াতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যাদের দাঁতের এনামেল দুর্বল বা দাঁত সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে
লেবু পানির অ্যাসিড দাঁতের ক্ষয় আরও বাড়াতে পারে। এতে দাঁতে ব্যথা, ঝিনঝিন
ভাব বা দাগ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তৃতীয়ত, গলার সংবেদনশীলতা বা এসিড রিফ্লাক্স সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের
জন্য গরম লেবু পানি গলা জ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এছাড়া কিছু
গর্ভবতী নারী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া
নিয়মিত লেবু পানি খাওয়া উচিত নয়।
সবশেষে, যাদের লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফলের প্রতি অ্যালার্জি আছে, তাদের
অবশ্যই এই পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। তাই নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা
করে গরম পানিতে লেবু খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সঠিক নিয়মে লেবু পানি খেয়ে ঝুঁকি কমানোর উপায়
গরম পানিতে লেবু খাওয়ার সম্ভাব্য অপকারিতা এড়াতে হলে সঠিক নিয়ম মেনে গ্রহণ
করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে পানির তাপমাত্রা যেন খুব
বেশি গরম না হয়। কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ অতিরিক্ত
গরম পানি লেবুর অ্যাসিডিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
লেবুর পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি। এক গ্লাস পানিতে অর্ধেক লেবুর রসের বেশি
ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত লেবু ব্যবহার করলে দাঁত ও পাকস্থলীর উপর চাপ
পড়ে। খালি পেটে না খেয়ে নাস্তার পরে বা খাবারের সঙ্গে লেবু পানি পান করলে
অ্যাসিডিটির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
দাঁতের সুরক্ষার জন্য লেবু পানি পান করার পর মুখ কুলি করা উচিত, তবে সঙ্গে
সঙ্গে টুথব্রাশ করা উচিত নয়। চাইলে স্ট্র ব্যবহার করে পান করলে দাঁতের সঙ্গে
সরাসরি সংস্পর্শ কম হয়। এছাড়াও, দিনে একবারের বেশি লেবু পানি না খাওয়াই
নিরাপদ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা। কোনো
অস্বস্তি বা সমস্যা অনুভব হলে এই অভ্যাস বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
উচিত। সঠিক নিয়মে লেবু পানি খেলে ঝুঁকি কমিয়ে উপকার পাওয়া সম্ভব।
আরোও পড়ুনঃ তাৎক্ষনিক ভাবে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়
গরম পানিতে লেবুর বিকল্প স্বাস্থ্যকর পানীয়
যারা গরম পানিতে লেবু খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক, দাঁতের সমস্যা বা গলা
জ্বালার মতো অসুবিধা অনুভব করেন, তাদের জন্য কিছু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর
বিকল্প পানীয় রয়েছে। এসব পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি হজম ও
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রথম বিকল্প হলো সাধারণ কুসুম গরম পানি। সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানি পান
করলে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় হয় এবং কোনো অ্যাসিডিক ঝুঁকি থাকে না।
দ্বিতীয়ত, মধু মেশানো কুসুম গরম পানি হালকা শক্তি জোগায় এবং হজমে সহায়তা
করে, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
এছাড়া আদা পানি বা জিরা ভেজানো পানি হজম শক্তি বাড়াতে ও পেট ফাঁপা কমাতে
সাহায্য করে। এসব পানীয় লেবুর মতো অতিরিক্ত অ্যাসিডিক নয়, তাই পাকস্থলীর
জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। ভেষজ চা যেমন তুলসি বা গ্রিন টি-ও ভালো বিকল্প
হতে পারে, যদি তা অতিরিক্ত খালি পেটে না খাওয়া হয়।
সবশেষে বলা যায়, শরীরের প্রয়োজন ও সহনশীলতা অনুযায়ী পানীয় নির্বাচন করাই
সবচেয়ে ভালো। লেবু পানি সহ্য না হলে এসব বিকল্প স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ
করাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
শেষকথাঃ গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা
সব মিলিয়ে বলা যায়, গরম পানিতে লেবু খাওয়ার অপকারিতা উপেক্ষা করা উচিত
নয়। যদিও এই অভ্যাসটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়, তবে সবার
শরীরের জন্য এটি উপযোগী নাও হতে পারে। অতিরিক্ত বা ভুল নিয়মে গরম পানিতে
লেবু খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, পাকস্থলীর জ্বালা
এবং গলা ও খাদ্যনালির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই
গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা দাঁতের সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও
বেশি।
তাই গরম পানিও লেবু খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক নিয়ম মেনে, সীমিত পরিমাণে এবং নিজের শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে এই
অভ্যাস গ্রহণ করা উচিত। কোনো ধরনের অস্বস্তি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা
দিলে দ্রুত এই অভ্যাস বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ
সিদ্ধান্ত। মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার জন্য কোনো অভ্যাস অন্ধভাবে অনুসরণ না
করে সচেতনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url