হঠাৎ করে বুকের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এই
ব্যথা কখনো হালকা, আবার কখনো তীব্র হতে পারে এবং শ্বাস নেওয়া, নড়াচড়া বা
দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বুকের ডান পাশে ব্যথার কারণ হিসেবে গ্যাস,
পেশির টান, হজমের সমস্যা বা অতিরিক্ত চাপ কাজ করতে পারে। সব সময় এই ব্যথা গুরুতর
রোগের লক্ষণ না হলেও অবহেলা করা ঠিক নয়।
অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
অনুসরণ করলে আরাম পাওয়া যায়। সঠিক বিশ্রাম, সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও
জীবনযাপনের ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে
ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা তীব্র হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই আরটিক্যালে আমরা সহজ ও নিরাপদ কয়েকটি বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর
ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব, যা বুকের ডান পাশের ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে
পারে।
পেজ সুচিপত্রঃ বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় পোস্টটিতে আমরা যা
যা জানতে পাড়বো
বুকের ডান পাশে ব্যথা হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং সব ক্ষেত্রে
এটি গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। অনেক সময় এই ব্যথা গ্যাস, বদহজম বা পেটে
অতিরিক্ত বাতাস জমার কারণে হয়ে থাকে, যা বুকের ডান দিকে চাপ সৃষ্টি করে।
এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভারী কিছু তোলা বা হঠাৎ শরীর মোচড়
দেওয়ার ফলে বুকের পেশিতে টান লাগতে পারে, যা ব্যথার কারণ হয়। কিছু ক্ষেত্রে
অতিরিক্ত কাশি, সর্দি বা শ্বাসনালির সংক্রমণের কারণেও বুকের এক পাশে ব্যথা
অনুভূত হয়।
বুকের ডান পাশে ফুসফুস, লিভার ও পিত্তথলির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে। এসব
অঙ্গের কোনো সমস্যা থাকলে ব্যথা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পিত্তথলিতে পাথর বা
লিভারের প্রদাহ থাকলে ডান পাশের বুকে বা পাঁজরের নিচে ব্যথা হতে পারে। আবার
মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার কারণেও বুকের ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে
যদি ব্যথা তীব্র হয়, দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা জ্বরের
সঙ্গে থাকে, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বুকের ডান পাশে ব্যথার সাধারণ কারণ
বুকের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং এর পেছনে
বিভিন্ন সাধারণ কারণ রয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গ্যাস ও বদহজম। অতিরিক্ত
তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ধীরে খাওয়া বা বেশি খাবার একবারে খাওয়া পেটে গ্যাস
জমাতে পারে, যা বুকের ডান পাশে চাপ ও ব্যথার অনুভূতি দেয়।
পেশির টানও একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসা, ভারী জিনিস তোলা বা
হঠাৎ শরীর মোচড় দেওয়া বুকের পেশিতে টান সৃষ্টি করে, যা ডান পাশের ব্যথার কারণ
হতে পারে। এছাড়া হঠাৎ কাশি বা শ্বাসনালির সংক্রমণও বুকের ডান পাশে ব্যথার জন্য
দায়ী হতে পারে। বুকের ডান পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন লিভার, পিত্তথলি ও
ফুসফুসের কোনো সমস্যা থাকলেও ব্যথা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, লিভারে
প্রদাহ, পিত্তথলিতে পাথর বা ফুসফুসে সংক্রমণ ব্যথার কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগও মাঝে মাঝে বুকের ডান পাশে ব্যথার কারণ হিসেবে কাজ করে।
তবে সাধারণত এই ধরনের ব্যথা সাময়িক হয় এবং বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম বা ঘরোয়া
উপায়ে কমানো যায়। তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যথা হলে
অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুকের ডান পাশে গ্যাসজনিত ব্যথা সাধারণত হজমের সমস্যার কারণে দেখা দেয়। এমন
অবস্থায় বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে ব্যথা
অনেকটা কমানো সম্ভব। প্রথমত, কুসুম গরম পানি পান করলে পেটে জমে থাকা বাতাস বের
হতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম
পানি পান করাও কার্যকর।আদা চা বা আদা পানি গ্যাস কমাতে বিশেষভাবে উপকারী। আদার
মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজম শক্তি বাড়ায় এবং পেটে চাপ কমায়।
এছাড়া জিরা চা বা জিরা পানিও পেট ফোলা ও গ্যাসজনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য
করে।হালকা হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং ব্যায়ামও কার্যকর। খাবারের পরে ৫-১০ মিনিট
হালকা হাঁটলে পেটে জমে থাকা বাতাস বের হয় এবং বুকের চাপ কমে। এছাড়া একসাথে
অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া, খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া এবং তেল-মশলাযুক্ত
খাবার কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুয়ে বিশ্রাম নিলে গ্যাসজনিত ব্যথা কমে। বিশেষ করে বাম কাতে শোয়া পেটে জমে
থাকা বাতাস বের করতে সাহায্য করে। এই ঘরোয়া উপায়গুলো প্রায়ই নিরাপদ ও
কার্যকর, তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেশির টান থেকে হওয়া ব্যথা কমানোর উপায়
বুকের ডান পাশে পেশির টান থেকে হওয়া ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভারী
জিনিস তোলা বা ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ঘুমানোর কারণে ঘটে। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত
হালকা থেকে মাঝারি স্তরের হয় এবং ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রথমেই
বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। কয়েক ঘণ্টা বা পুরো দিনের জন্য ব্যথাযুক্ত অংশকে
বিশ্রাম দেওয়া পেশির চাপ কমাতে সাহায্য করে।
গরম সেঁক বা গরম তোয়ালে ব্যথাযুক্ত স্থানে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখলে রক্তসঞ্চালন
বাড়ে এবং পেশি শিথিল হয়। দিনে ২-৩ বার গরম সেঁক দেওয়া কার্যকর। এছাড়া হালকা
স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম ধীরে ধীরে করলে পেশির টান কমে এবং পেশি শক্তি বৃদ্ধি
পায়। তবে ব্যথা বেশি থাকলে জোর করে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও ঘুমানোও পেশির ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ একই
অবস্থায় না বসে মাঝে মাঝে শরীর নড়াচড়া করা পেশিকে শিথিল রাখে। সঠিক
জীবনধারা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ভারী কাজ থেকে বিরত থাকলে পেশির টানজনিত বুকের
ডান পাশের ব্যথা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
গরম সেঁক দিয়ে বুকের ব্যথা কমানো
বুকের ডান পাশে ব্যথা অনেক সময় পেশির টান বা গ্যাসজনিত কারণে হয়। এমন
অবস্থায় গরম সেঁক একটি খুবই কার্যকর ঘরোয়া উপায়। গরম পানির বোতল বা গরম
তোয়ালে ব্যথার স্থানে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখলে পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন
বৃদ্ধি পায়। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি কমতে সাহায্য করে।গরম সেঁক দিনের ২-৩ বার
ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যদি বুকের ব্যথার সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা
সংক্রমণের লক্ষণ থাকে, তখন গরম সেঁক দেওয়া উচিত নয়। ছোট বাচ্চা বা গর্ভবতী
নারীর ক্ষেত্রেও সতর্কতা রাখা জরুরি।
সঠিকভাবে গরম সেঁক দেওয়ার জন্য তোয়ালেকে হালকা ভেজানো বা বোতলটি কাপড়ে
মোড়ানো ভালো, যাতে সরাসরি ত্বকের উপর অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ না হয়। এই পদ্ধতি
বিশেষ করে পেশির টানজনিত বা হালকা ব্যথা কমানোর জন্য সবচেয়ে উপকারী।
দৈনন্দিন জীবনে যদি গরম সেঁকের সঙ্গে হালকা স্ট্রেচিং এবং বিশ্রাম মেনে চলা
হয়, তাহলে বুকের ডান পাশের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি একেবারে
নিরাপদ, সহজ এবং ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।
আদা ও ভেষজ উপাদানের ব্যবহার
বুকের ডান পাশে ব্যথা অনেক সময় হজমজনিত সমস্যা বা পেশির টান থেকে হয়ে থাকে।
এই ধরনের ব্যথা কমাতে আদা ও অন্যান্য ভেষজ উপাদান অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া
উপায়। আদার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও হজম সহায়ক উপাদান
পেট ফোলা ও গ্যাসজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করে। আদা চা বা কুসুম গরম পানিতে আদা
ভেজে খাওয়া বুকের ব্যথা হ্রাসে উপকারী।
তুলসি পাতা, মেথি ও জিরা ব্যবহারও ব্যথা কমাতে সহায়ক। তুলসি পাতা গ্যাস কমাতে
সাহায্য করে এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে। মেথি বা জিরা পেটের হজম
প্রক্রিয়াকে সহজ করে, যার ফলে বুকের ডান পাশে চাপ কমে। আদা ও ভেষজ উপাদান
একসাথে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ছোট শিশু বা গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে ব্যবহার সীমিত করা উচিত। এছাড়া অতিরিক্ত
মাত্রায় ভেষজ গ্রহণ এড়ানো উচিত। নিয়মিত ব্যবহার করলে এগুলো গ্যাসজনিত বা
হালকা পেশির ব্যথা কমাতে কার্যকর এবং নিরাপদ। ঘরোয়া উপায় হিসেবে আদা ও ভেষজ
উপাদান বুকের ডান পাশের ব্যথা কমানোর জন্য সহজ, কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান।
বুকের ডান পাশে ব্যথা অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ঘুমানোর কারণে
হয়। সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখলে পেশির চাপ কমে এবং ব্যথা হ্রাস পায়। বসার সময়
পিঠ সোজা রাখা, কাঁধ ঢিলা রাখা এবং পায়ের পজিশন ঠিক রাখা জরুরি। দীর্ঘক্ষণ
কম্পিউটারের সামনে বা মোবাইল ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে শরীর নড়াচড়া করা উচিত,
যাতে পেশি চাপমুক্ত থাকে।
ঘুমানোর সময়ও সঠিক ভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি শক্তির বালিশ ব্যবহার করা উচিত,
খুব নরম বা খুব শক্ত বালিশ পেশিতে চাপ বাড়ায়। পাশ ফিরে শোয়া পেট ও বুকের চাপ
কমাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমের সময় একপাশে না থাকলে বুক ও পেশিতে সমান চাপ
পড়ে, যা ব্যথা কমাতে সহায়ক।
সঠিক ভঙ্গি শুধু ব্যথা কমাতেই সাহায্য করে না, এটি দীর্ঘমেয়াদে পেশি ও হাড়ের
স্বাস্থ্যও বজায় রাখে। নিয়মিত সঠিক ভঙ্গি অনুশীলন করলে বুকের ডান পাশে পেশির
টানজনিত ব্যথা কমে এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয় না। তাই প্রতিদিন
সচেতনভাবে বসা ও ঘুমানো স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য।
বুকের ব্যথা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
বুকের ডান পাশে ব্যথা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন খুবই কার্যকর।
প্রথমত, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়ানো
উচিত। এসব খাবার হজমের সমস্যা ও গ্যাস তৈরি করে, যা বুকের ডান পাশে চাপ সৃষ্টি
করতে পারে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া হজম
প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পেট ফোলা ও গ্যাসজনিত ব্যথা কমায়।
খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ, যা হজমে সাহায্য করে এবং
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। খাবার সময় নিয়মিত ও ধীরে ধীরে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
একসাথে অতিরিক্ত খাওয়া বা খাওয়ার সময় দ্রুত খাওয়া পেটের ওপর চাপ বৃদ্ধি
করে, যার ফলে বুকের ডান পাশে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া রাতে ভারী খাবার খাওয়া
এড়ানো এবং হালকা, সহজ হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করলে পেট ও বুকের চাপ কমে।
ছোট ছোট পরিবর্তন যেমন দিনের মধ্যে ছোট অংশে খাবার খাওয়া, তেল-মশলাযুক্ত
খাবারের পরিমাণ সীমিত রাখা, হালকা প্রোটিন ও সবজি খাওয়া বুকের ব্যথা কমাতে
সাহায্য করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত পানীয় গ্রহণ বুকের ডান পাশে ব্যথা
নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন সহজ করে।
কখন বুকের ডান পাশের ব্যথায় চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
বুকের ডান পাশে ব্যথা সাধারণত হালকা বা সাময়িক হলে ঘরোয়া উপায়ে কমানো যায়।
তবে কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অপরিহার্য। যদি ব্যথা দীর্ঘদিন
স্থায়ী হয়, ক্রমশ বাড়তে থাকে, বা হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তখন দেরি না
করে ডাক্তার দেখানো উচিত।শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকের চাপ, বমি ভাব, জ্বর বা মাথা
ঘোরা-এই ধরনের উপসর্গের সঙ্গে ব্যথা থাকলে তা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ফুসফুস, লিভার বা পিত্তথলির সমস্যার কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এছাড়া পূর্বে হার্ট বা পিত্তথলির রোগের ইতিহাস থাকলে যে কোনো নতুন ব্যথা
চিকিৎসকের পরামর্শে দেখানো আবশ্যক।শিশু, গর্ভবতী নারী বা বয়স্ক ব্যক্তির
ক্ষেত্রে হালকা ব্যথাও কখনো কখনো গুরুতর হতে পারে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিদের
ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া জরুরি।
সংক্ষেপে, বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় কাজ না করে, ব্যথার
ধরন অস্বাভাবিক হয় বা অন্যান্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তখন চিকিৎসকের সঙ্গে
পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সময়মতো চিকিৎসা নিলে সমস্যার জটিলতা অনেকটাই
কমানো সম্ভব।
বুকের ডান পাশে ব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যদিও
হালকা ব্যথা সাধারণত ঘরোয়া উপায়ে কমানো যায়, তবে কখনো কখনো এটি গুরুতর
সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। ঘরোয়া উপায় যেমন গরম সেঁক, আদা ও ভেষজ উপাদান,
হালকা স্ট্রেচিং, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন প্রাথমিক
অবস্থায় ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
তবে বুকের ডান পাশে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করার সময় সতর্কতা
অবলম্বন করা জরুরি। যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্র হয় বা শ্বাসকষ্ট, জ্বর,
বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
আবশ্যক।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url