মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায়

মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায় প্রায়ই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। হঠাৎ মাথা ব্যথা, টেনশন বা দুশ্চিন্তা অনেক সময় কাজ ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। ঔষধ ব্যবহার না করেও কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে মাথা যন্ত্রণা কমানো সম্ভব।

সঠিক পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম, ধ্যান, গরম বা ঠান্ডা সেঁক প্রয়োগ ইত্যাদি কিছু সাধারণ পদ্ধতি যা দ্রুত আরাম দেয়। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে মাথা ব্যথা কমানো সম্ভব। আজকের আরটিকেলে আমরা মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায় সর্ম্পকে বিস্তারিত জানবো।

পেজ সুচিপত্রঃ মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায় পোস্টটিতে আমরা যা যা জানবো

মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায়

মাথা যন্ত্রণা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা। হঠাৎ বা দীর্ঘ সময় ধরে মাথা ব্যথা কাজ ও মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত মানসিক চাপ, চোখের অতিরিক্ত ব্যবহার, অনিয়মিত ঘুম এবং খারাপ খাদ্যাভ্যাস মাথা যন্ত্রণার প্রধান কারণ। তবে প্রাকৃতিক ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক সময় ঔষধ ছাড়াই এই ব্যথা কমানো সম্ভব। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মাথা যন্ত্রণা কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।

প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীর হাইড্রেটেড না থাকলে মস্তিষ্কের কোষ শুষ্ক হয়ে যায়, যা ব্যথা সৃষ্টি করে। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি, ফলের রস বা হালকা স্যুপ পান করা উচিত। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে। দিনের মধ্যে ছোট ভ্রাম্য ঘুম করলে কাজের চাপ কমে এবং মাথা ব্যথা হ্রাস পায়।

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ও হালকা ব্যায়ামও খুব কার্যকর। ধ্যান, যোগব্যায়াম বা হালকা হাঁটাহাঁটি মাথার পেশি শিথিল করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। ঠান্ডা বা গরম সেঁক প্রয়োগ, ঘ্রাণ থেরাপি বা হালকা ম্যাসাজও দ্রুত আরাম দেয়। এছাড়াও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সীমিত ক্যাফেইন এবং চোখের বিশ্রাম নিয়মিত করা উচিত। এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে মাথা যন্ত্রণা কমানো সম্ভব এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।

প্রচুর পানি পান করুন

শরীরের পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন অনেক সময় মাথা ব্যথার প্রধান কারণ হয়ে থাকে। যখন শরীরে যথেষ্ট পানি থাকে না, তখন মস্তিষ্কের কোষগুলো শুষ্ক হয়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে কাজ করে না, যার ফলে মাথা ব্যথা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের পর অতিরিক্ত পানি পান না করলে সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। নিয়মিত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং মাথা যন্ত্রণা কমে।

দিনে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। শুধু পানি নয়, হালকা স্যুপ, ফলের রস বা হরেক রকম তরল খাবারও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। যারা অফিস বা কম্পিউটার ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় বসে থাকে, তাদের জন্য পানি পান বিশেষভাবে জরুরি। নিয়মিত ছোট ছোট পরিমাণে পানি পান করলে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং মাথা ব্যথার সম্ভাবনা কমে।

অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক পান করা ঠিক মতো হাইড্রেশন দেয় না। এগুলো শরীর থেকে পানি বের করতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশন আরও বাড়ায়। তাই এই ধরনের পানীয় সীমিত ব্যবহার করা উচিত। হঠাৎ ডিহাইড্রেশন থেকে মাথা ব্যথা শুরু হলে পানি, নারকেল পানি বা ফলের রস দ্রুত আরাম দিতে পারে। নিয়মিত পানি পান করা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া উপায়।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

পর্যাপ্ত এবং নিয়মিত ঘুম মাথা যন্ত্রণা কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাব মস্তিষ্ক ও শরীরের পেশিতে চাপ সৃষ্টি করে, যা সাধারণ মাথা ব্যথার প্রধান কারণ হতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, যা মাথা ব্যথা হ্রাসে সাহায্য করে।

ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার এবং শীতল রাখা উচিত। রাতে ফোন, টিভি বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো জরুরি, কারণ এই ধরনের আলো মেলাটোনিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা ঘুমকে ব্যাহত করে। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও উঠার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে এবং দৈনন্দিন চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ছোট ভ্রাম্য ঘুম  দিনের ক্লান্তি দূর করে এবং মাথা ব্যথা কমায়।

ঘুমের অভাব মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অবসাদও বাড়ায়, যা মাথা ব্যথাকে আরও তীব্র করে। তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য গভীর এবং পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস মাথা যন্ত্রণা প্রতিরোধে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

স্ট্রেস কমানোর জন্য ধ্যান ও যোগব্যায়াম

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস অনেক সময় মাথা ব্যথার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময়ের চাপ, কাজের চাপ বা পারিবারিক সমস্যা মাথার পেশি শক্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন কমায়, যার ফলে মাথা যন্ত্রণা হয়। নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে খুব কার্যকর। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিটের জন্য ধ্যান করলে মস্তিষ্ক শান্ত হয়, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং মাথা ব্যথা হ্রাস পায়।

যোগব্যায়ামও মাথা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষভাবে যে আসন বা স্ট্রেচিং পেশি শিথিল করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, সেগুলো ব্যথা হ্রাসে কার্যকর। যোগব্যায়াম শুধু শারীরিক সুবিধা দেয় না, মানসিক শান্তিও বৃদ্ধি করে। ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগের ব্যায়াম এবং হালকা স্ট্রেচিং মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং মাথা ব্যথার সম্ভাবনা কমায়।

গভীর শ্বাস নেওয়া, প্রানায়াম এবং হালকা ধ্যান নিয়মিত করার মাধ্যমে শরীর ও মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এটি স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং মানসিক চাপ হ্রাস করে। দিনের মধ্যে কিছু সময় নিজের জন্য বের করে এই পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে মাথা ব্যথা এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি

হালকা ব্যায়াম এবং নিয়মিত হাঁটাহাঁটি মাথা যন্ত্রণা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বা কাজ করার ফলে ঘাড়, কাঁধ এবং মস্তিষ্কের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হয়, যা মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। হালকা ব্যায়াম পেশি শিথিল করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যার ফলে মাথার মধ্যে অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছে ব্যথা কমে। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি শরীর ও মনের জন্য খুব উপকারী।

হালকা ব্যায়াম শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের সময় গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং রিল্যাক্সেশন হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। হাঁটাহাঁটি, স্ট্রেচিং বা হালকা জগিং নিয়মিত করলে মাথার পেশি শিথিল হয় এবং মাথা ব্যথার সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ব্যায়াম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট বিরতি নিয়ে হালকা স্ট্রেচিং বা মৃদু হাঁটা মাথা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস শুধু মাথা ব্যথা প্রতিরোধ করে না, শরীরকে সতেজ রাখে এবং মানসিক চাপও কমায়, যা দৈনন্দিন জীবনে আরও ভালো কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করে।

ঠান্ডা বা গরম সেঁক ব্যবহার করুন

ঠান্ডা বা গরম সেঁক মাথা যন্ত্রণা কমানোর একটি সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি। ঠান্ডা সেঁক মাথার রক্তনালী সংকুচিত করে এবং প্রদাহ কমায়, যা বিশেষ করে মাইগ্রেনের সময় কার্যকর। বরফের প্যাক বা ঠান্ডা জল দিয়ে ভিজানো তোয়ালে মাথার সামনের বা কপালের অংশে প্রয়োগ করা যায়। এটি মাথার মধ্যে চাপ হ্রাস করে এবং দ্রুত আরাম দেয়।

অপরদিকে, গরম সেঁক ঘাড় ও কাঁধের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। যখন ঘাড় এবং কাঁধে শক্তি থাকে, তখন রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হয় না, যা মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। গরম পানি বা হট প্যাক ব্যবহার করে পেশি শিথিল করা হলে মাথা ব্যথা হ্রাস পায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার করেন বা স্ট্রেসে থাকেন, তাদের জন্য গরম সেঁক অনেক সাহায্য করে।

ঠান্ডা ও গরম সেঁক একসাথে ব্যবহার করাও কার্যকর হতে পারে। প্রথমে ঠান্ডা সেঁক দিয়ে মাথা বা কপাল শান্ত করা, তারপর গরম সেঁক দিয়ে ঘাড় ও কাঁধ শিথিল করা যেতে পারে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, পেশি শিথিল করে এবং মাথা ব্যথার সময় দ্রুত আরাম দেয়। নিয়মিত প্রয়োগ করলে এই পদ্ধতি খুব কার্যকর প্রমাণিত হয়।

ক্যাফেইন সীমিত করুন

ক্যাফেইন অনেক সময় মাথা যন্ত্রণাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। চা, কফি, সোডা বা এনার্জি ড্রিংক অতিরিক্ত গ্রহণ করলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং মাথা ব্যথা তীব্র হতে পারে। তবে খুব ছোট পরিমাণ ক্যাফেইন কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে, যেমন হালকা মাইগ্রেনে। তাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ক্যাফেইন গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

দিনে কয়েক কাপ চা বা কফি সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক থাকলেও, বিকেলের পর এই ধরনের পানীয় এড়ানো উচিত। অনেকেই হঠাৎ ক্যাফেইন কমালে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হন। তাই ধীরে ধীরে কমানো সবচেয়ে ভালো। বিকল্প হিসেবে হালকা হারবাল চা বা গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যাফেইন সীমিত করার মাধ্যমে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা মাথা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করলে দীর্ঘমেয়াদে মাথা ব্যথার সমস্যা অনেকটা হ্রাস পায়। এছাড়াও, এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক।

চোখের বিশ্রাম নিন

দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল বা টিভি ব্যবহার করলে চোখ ক্লান্ত হয়ে যায়, যা মাথা ব্যথার একটি সাধারণ কারণ। চোখের অতিরিক্ত চাপ রক্ত সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে এবং মাথার পেশি শক্ত হয়ে যায়। নিয়মিত চোখের বিশ্রাম নেওয়া মাথা যন্ত্রণা কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০-২০-২০ নিয়ম খুব কার্যকর: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে কোনো কিছু দেখুন।

চোখের ব্যায়ামও সাহায্য করে। চোখ বেঁকে ধরা, চোখের চক্রাকারে চলাচল এবং চোখের মৃদু চাপ শিথিল করার ব্যায়াম চোখের পেশি রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। এছাড়াও পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো এবং স্ক্রিন থেকে নিয়মিত দূরে তাকানো চোখের চাপ কমায়। ছোট ছোট বিরতি নিলে চোখ সতেজ থাকে এবং মাথা ব্যথার সম্ভাবনা কমে।

নিয়মিত চোখের বিশ্রাম নেওয়ার মাধ্যমে শুধু মাথা যন্ত্রণা কমানো যায় না, চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতিও সম্ভব। যারা দীর্ঘ সময় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও চোখের বিশ্রামের সঙ্গে হালকা স্ট্রেচিং বা ঘাড়–কাঁধের ব্যায়াম করলে মাথা ব্যথা আরও কমানো যায়। এই অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপও হ্রাস করে।

ঘ্রাণ থেরাপি বা এশেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার

প্রাকৃতিক ঘ্রাণ থেরাপি মাথা যন্ত্রণা কমাতে খুব কার্যকর। পিপারমিন্ট বা ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করে মস্তিষ্ক এবং ঘাড়ের পেশি শিথিল করা যায়। এশেনশিয়াল অয়েল হালকা ম্যাসাজের সঙ্গে ব্যবহার করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং মাথা ব্যথা দ্রুত কমে। এটি বিশেষভাবে মাইগ্রেনের সময় অনেক সাহায্য করে।

ঘ্রাণ থেরাপির মাধ্যমে মানসিক চাপও কমানো যায়। পিপারমিন্ট অয়েলের শীতল গন্ধ মাথা শিথিল করে এবং স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করতে সাহায্য করে। ল্যাভেন্ডার অয়েল মানসিক শান্তি প্রদান করে এবং গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় শরীরকে রিল্যাক্স করে। ছোট বোতল এশেনশিয়াল অয়েল নিয়মিত ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে মাথা যন্ত্রণা হ্রাস পায়।

ঘ্রাণ থেরাপি খুব সহজে ঘরে করা যায়। কয়েক ফোঁটা অয়েল চামড়ায় হালকা ম্যাসাজ বা হ্যাঁডার পাশে রাখলে তা দ্রুত কাজ করে। এছাড়াও গরম পানি বা বাষ্পের সঙ্গে অয়েল ব্যবহার করেও মাথা শান্ত রাখা সম্ভব। নিয়মিত প্রয়োগ করলে মাথা যন্ত্রণা কমানো যায় এবং মানসিক চাপ হ্রাস পায়, যা দৈনন্দিন জীবনে শরীর ও মনের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন

খাবারের ধরণও মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুড মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে। বরং স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার যেমন তাজা ফল, সবজি, বাদাম, শস্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, আখরোট বা চিয়া বীজ, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে মাথা ব্যথার সম্ভাবনা অনেকটা কমে। হালকা, সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হজমের চাপ কমায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

ক্যাফেইন বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করার পাশাপাশি নিয়মিত হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি মাথা যন্ত্রণা প্রতিরোধে সহায়ক। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখলে শুধু মাথা ব্যথা কমে না, মানসিক চাপও হ্রাস পায় এবং শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় থাকে।

শেষকথাঃ মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায়

মাথা যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ঔষধ ছাড়াই প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায় এবং মাথা ব্যথার পুনরাবৃত্তি কমে। পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কমানো, হালকা ব্যায়াম, চোখের বিশ্রাম-এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে এবং পেশিকে শিথিল করে। নিয়মিত প্রয়োগে মাথা ব্যথা কমানো সম্ভব এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়।

এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। ধ্যান, যোগব্যায়াম, ঘ্রাণ থেরাপি এবং হালকা ম্যাসাজ মস্তিষ্ককে রিল্যাক্স করে এবং স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করে। হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য, সীমিত ক্যাফেইন এবং নিয়মিত চোখের বিশ্রাম দৈনন্দিন মাথা যন্ত্রণা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ঠান্ডা বা গরম সেঁক দ্রুত আরাম দেয় এবং পেশি শিথিল করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url