পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনিয়মিত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে গ্যাসের
সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। পেটে গ্যাস জমলে ব্যথা, অস্বস্তি ও পেট ফাঁপার মতো
সমস্যা হয়, যা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় প্রাকৃতিক ও সহজ
সমাধান হিসেবে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো বেশ কার্যকর।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু সহজ টোটকা মেনে চললে অনেক সময়
ওষুধ ছাড়াই আরাম পাওয়া যায়। আজকের আরটিক্যালে আমরা জানবো পেটে গ্যাসের
ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় যেগুলো মানলে খুব সহজে পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানো
সম্ভব তাই আরটিক্যালটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
পেজ সুচিপত্রঃ পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় পোস্টটিতে আমরা যা যা
জানতে পাড়বো
পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানা আমাদের সবার জন্যই জরুরি,
কারণ গ্যাসের সমস্যা বর্তমানে একটি খুব সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যায় পরিণত হয়েছে।
অনিয়মিত খাবার খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত
খাবার, ফাস্টফুড ও পর্যাপ্ত পানি না পান করার ফলে পেটে গ্যাস জমে যায়। এর সঙ্গে
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাও গ্যাসের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। পেটে গ্যাস জমলে পেট
ফাঁপা, ব্যথা, অস্বস্তি, বুক জ্বালাপোড়া ও কখনো কখনো বমি ভাব পর্যন্ত দেখা দিতে
পারে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।
অনেকেই এই সমস্যা দেখা দিলেই ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু সব সময় ওষুধ
গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এই ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতি হতে পারে
নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান। আদা, জিরা, মৌরি, হিং, পুদিনার মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক
উপাদান সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি
সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্যাস প্রতিরোধে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিয়মিতভাবে এসব অভ্যাস মেনে চললে পেটের হজমশক্তি উন্নত হয় এবং গ্যাসের ব্যথা
থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য
গ্যাসের সমস্যায় ঘরোয়া সমাধানগুলো জানা ও অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
পেটে গ্যাসের ব্যথা কমাতে গরম পানির ব্যবহার একটি সহজ, কার্যকর ও প্রাকৃতিক
ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত। অনেক সময় হজম প্রক্রিয়া ঠিকমতো না হওয়ার কারণে
পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমে যায়, যার ফলে পেট ফাঁপা, ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
এ অবস্থায় গরম পানি পান করলে পেটের পেশি শিথিল হয় এবং হজমশক্তি ধীরে ধীরে
উন্নত হতে শুরু করে। ফলে জমে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমে।
গরম পানি হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি খাবার দ্রুত ভাঙতে সহায়তা করে।
বিশেষ করে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর বা সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানি পান
করলে অন্ত্রের কার্যকারিতা সক্রিয় হয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং গ্যাস জমার
সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। অনেক সময় ঠান্ডা পানি পান করলে পেটের সমস্যা আরও বেড়ে
যেতে পারে, কিন্তু গরম পানি সেই ঝুঁকি কমায়।
পেটে ব্যথা বেশি হলে শুধু গরম পানি পানই নয়, চাইলে গরম পানির বোতল বা গরম
পানিতে ভেজানো কাপড় পেটের ওপর সেঁক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে রক্ত সঞ্চালন
বৃদ্ধি পায় এবং পেটের চাপ ও ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি
পান করা উচিত নয়, কারণ এতে মুখ ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে। নিয়মিত ও
পরিমিতভাবে গরম পানি ব্যবহারের অভ্যাস গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক
এবং শরীরকে আরাম দেয়।
আদা দিয়ে গ্যাসের সমস্যা কমানোর উপায়
আদা দিয়ে গ্যাসের সমস্যা কমানোর উপায় প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া চিকিৎসায়
ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজমশক্তি বাড়াতে
সাহায্য করে এবং পাকস্থলীর ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বের হতে সহায়তা করে।
অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার বা মানসিক চাপের কারণে যখন
পেটে গ্যাস জমে যায়, তখন আদা খুব দ্রুত আরাম দিতে পারে।
আদা হজম এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট ফাঁপা
ও ব্যথা কমে। এক টুকরো কাঁচা আদা সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া গ্যাস
কমাতে উপকারী। এছাড়া আদা কুচি করে গরম পানিতে ফুটিয়ে আদা চা বানিয়ে পান
করলে পেটের ভেতরের অস্বস্তি দূর হয়। অনেকেই আদার রসের সঙ্গে অল্প লেবুর রস
বা মধু মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পান।
আদার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এটি পাকস্থলীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাসের সমস্যায় ভুগলেও নিয়মিত আদা ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে
উন্নতি দেখা যায়। তবে অতিরিক্ত আদা খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পেটে জ্বালা
বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আদা খাদ্যতালিকায়
অন্তর্ভুক্ত করলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে
রাখা সম্ভব।
জিরা পানি পান করার উপকারিতা
জিরা পানি পান করার উপকারিতা আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে হজমজনিত সমস্যায়। জিরার মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের
প্রাকৃতিক উপাদান যা হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীতে জমে থাকা
গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত জিরা পানি পান করলে পেট ফাঁপা, গ্যাসের
ব্যথা ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়।
জিরা পানি হজম এনজাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে খাবার সহজে হজম হয়।
এটি অন্ত্রের গতিশীলতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।
সকালে খালি পেটে হালকা গরম জিরা পানি পান করলে শরীরের ভেতরের মেটাবলিজম
সক্রিয় হয় এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া অতিরিক্ত
তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর জিরা পানি পান করলে পেটের ভারভাব ও
জ্বালাপোড়া কমে।
জিরা পানির আরেকটি বড় উপকারিতা হলো এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে
সাহায্য করে। ফলে শরীর হালকা অনুভূত হয় এবং হজমের সমস্যা কমে। জিরা পানিতে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
ভূমিকা রাখে।
জিরা পানি তৈরি করতে এক চামচ জিরা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ফুটিয়ে
ছেঁকে পান করা যায়। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে জিরা পানি পান করলে গ্যাসের সমস্যা
কমে এবং সামগ্রিকভাবে শরীর সুস্থ থাকে।
হিং ব্যবহারে গ্যাসের ব্যথা উপশম একটি কার্যকর ও পরিচিত ঘরোয়া চিকিৎসা
পদ্ধতি। প্রাচীনকাল থেকেই হিং হজমজনিত সমস্যা দূর করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হিংয়ের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পাকস্থলীর পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য
করে এবং অন্ত্রে জমে থাকা গ্যাস বের হতে সহায়তা করে। ফলে পেট ফাঁপা, মোচড়
দেওয়া ব্যথা ও অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমে যায়।
হিং হজমশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি হজম এনজাইমের
কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে খাবার দ্রুত ও সহজে হজম হয়। বিশেষ করে
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হিং ব্যবহার করলে গ্যাসের সমস্যা
কমে। অল্প পরিমাণ হিং গরম পানিতে মিশিয়ে পান করলে পেটের ভেতরের চাপ কমে এবং
আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া রান্নার সময় তরকারি বা ডালে সামান্য হিং ব্যবহার
করলেও হজমে সহায়তা করে।
হিংয়ের আরেকটি গুণ হলো এটি অন্ত্রের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। ফলে পেটের
সংক্রমণজনিত গ্যাস ও ব্যথার ঝুঁকি কমে। অনেক সময় শিশুদের গ্যাসের ব্যথায়
হিং পানিতে গুলে নাভির চারপাশে হালকা মালিশ করলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে হিং
ব্যবহারে পরিমিত হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত হিং ব্যবহার করলে পেটে জ্বালা বা
অস্বস্তি হতে পারে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে হিং ব্যবহার করলে গ্যাসের ব্যথা থেকে
স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
মৌরি চিবিয়ে গ্যাস দূর করার সহজ উপায়
মৌরি চিবিয়ে গ্যাস দূর করার সহজ উপায় প্রাচীনকাল থেকে ঘরোয়া চিকিৎসার
একটি পরিচিত পদ্ধতি। মৌরিতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পেটের হজমশক্তি বাড়াতে
সাহায্য করে এবং পাকস্থলীর ভেতরে জমে থাকা গ্যাস সহজে বের হতে সহায়তা করে।
অনিয়মিত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ বা মানসিক
চাপের কারণে যখন পেটে গ্যাস জমে, তখন মৌরি দ্রুত আরাম দিতে পারে।
প্রতিদিন খাবারের পর কয়েকটি মৌরি চিবিয়ে খাওয়া পেটের অস্বস্তি কমাতে
কার্যকর। এটি শুধু গ্যাস কমায় না, বরং হজমের সমস্যা দূর করে এবং পেট ফাঁপা
কমাতে সাহায্য করে। চাইলে মৌরি সামান্য শুকনো করে ভাজা অবস্থায় খাওয়া
যায় অথবা গরম পানির সঙ্গে মৌরি ফোটিয়ে পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।
মৌরি চিবানোর মাধ্যমে হজম এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়ে এবং খাবারের পর
পাকস্থলীতে গ্যাস জমার সম্ভাবনা কমে। এছাড়া মৌরিতে থাকা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, মৌরি অতিরিক্ত খেলে পেটে অস্বস্তি বা জ্বালা হতে
পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মৌরি চিবিয়ে খাওয়া বা মৌরি পানি পান করার
অভ্যাস গ্যাসের সমস্যায় স্বাভাবিক আরাম দেয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহায়ক
করে।
দই খাওয়ার মাধ্যমে হজমশক্তি বাড়ানো
দই খাওয়ার মাধ্যমে হজমশক্তি বাড়ানো একটি সহজ ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়।
দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলী ও অন্ত্রের হজমশক্তি
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। নিয়মিত দই খাওয়া পেটে জমে থাকা গ্যাস কমায়,
হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পেট ফাঁপা ও ব্যথা কমাতে কার্যকর হয়।
দই খাওয়া হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা
বৃদ্ধি করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও অস্বাভাবিক হজমজনিত সমস্যায় সহায়তা করে।
বিশেষ করে খাবারের পর দই খেলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং গ্যাসের সমস্যা কমে।
সকালে খালি পেটে বা দুপুরে খাবারের পর অল্প দই খাওয়াও কার্যকর।
দইতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদানগুলো পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব
কমায়, ফলে হজমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। চাইলে দইয়ের সঙ্গে সামান্য
মৌরি, আদা বা পুদিনা মিশিয়ে খাওয়া যায়, যা হজমকে আরও সহায়ক করে।
তবে বেশি পরিমাণে দই খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ অতিরিক্ত দই পেটে
গ্যাস বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত এবং পরিমিতভাবে দই খাওয়া
হজমশক্তি বাড়াতে, গ্যাস কমাতে এবং পেটকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
পুদিনা পাতার রস ও গ্যাসের ব্যথা
পুদিনা পাতার রস ও গ্যাসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি।
পুদিনার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পেটের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
এবং পাকস্থলীর ভেতরে জমে থাকা অতিরিক্ত গ্যাস বের করতে সহায়ক। গরম,
তেল-মশলাযুক্ত খাবার বা মানসিক চাপের কারণে যখন পেটে গ্যাস জমে, তখন পুদিনা
দ্রুত আরাম দেয়।
পুদিনা পাতার রস পেটের পেশি শিথিল করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এতে
খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেট ফাঁপা, ব্যথা ও অস্বস্তি কমে। নিয়মিত কিছু
পুদিনা পাতা চিবিয়ে খাওয়া বা পাতার রস পানি বা অল্প মধুর সঙ্গে মিশিয়ে
পান করা অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা দূর করে।পুদিনা পাতার রস শুধু গ্যাস
কমাতেই নয়, অন্ত্রে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে কমাতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রতিরোধে সাহায্য করে।
চাইলে পুদিনা চা বানিয়ে দিনে একবার খেলে হজমশক্তি বাড়ে এবং পেটের চাপ
কমে।তবে অতিরিক্ত পরিমাণে পুদিনা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এতে
কখনও কখনও হালকা অস্বস্তি বা জ্বালা হতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে পুদিনা
পাতার রস ব্যবহার করলে গ্যাসের ব্যথা কমে এবং পেট সুস্থ থাকে।
হালকা হাঁটা ও ব্যায়ামে গ্যাস কমানোর কৌশল
হালকা হাঁটা ও ব্যায়ামে গ্যাস কমানোর কৌশল একটি সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়।
অনেক সময় পেটে গ্যাস জমে যায় কারণ হজম প্রক্রিয়া ধীর হয় বা দীর্ঘ সময়
বসে থাকার কারণে অন্ত্রে গ্যাস আটকে থাকে। এ ক্ষেত্রে হালকা হাঁটা বা নিয়মিত
ব্যায়াম পেটের পেশি সক্রিয় করে এবং অন্ত্রে জমে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য
করে।
প্রতিদিন খাবারের পর হালকা হাঁটা করা খুব উপকারী। ১০–১৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটি
পেটের হজমকে দ্রুত করে এবং ফাঁপা ও ব্যথা কমায়। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম
যেমন যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং বা পেটের হালকা মাসল মুভমেন্ট অন্ত্রের
কার্যকারিতা বাড়ায়। বিশেষ করে কোলু ভক্তি বা পেলভিক রক ধরনের সহজ ব্যায়াম
গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে।
হালকা হাঁটা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং পেটে চাপ
কমে। ফলে হজম ভালো হয় এবং অস্বস্তি কমে। এছাড়া নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ
মানসিক চাপও কমায়, যা অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়। তবে খেয়াল রাখতে
হবে, খাবারের সাথে খুব ভারি ব্যায়াম করা উচিত নয়। নিয়মিত, ধীর ও
পরিমিতভাবে হালকা হাঁটা ও ব্যায়াম অনুসরণ করলে গ্যাসের সমস্যা কমে, হজম
শক্তি বাড়ে এবং পেট সুস্থ থাকে।
গরম সেঁক দিয়ে পেটের ব্যথা কমানো
গরম সেঁক দিয়ে পেটের ব্যথা কমানো একটি প্রাচীন ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়।
পেটে গ্যাস জমে গেলে বা হজম প্রক্রিয়া ঠিকমতো না হলে পেটে ব্যথা, ফাঁপা ও
অস্বস্তি দেখা দেয়। এই অবস্থায় গরম সেঁক বা হিট প্যাক ব্যবহার করলে পেটের
পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ফলে ব্যথা অনেকটা কমে।
গরম সেঁক ব্যবহার করা খুবই সহজ। একটি গরম পানিতে ভেজানো কাপড় বা হিট প্যাক
পেটের ওপর প্রায় ১০–১৫ মিনিট রাখলে পেটের চাপ কমে যায় এবং জমে থাকা গ্যাস
বের হতে সহায়তা করে। চাইলে এই প্রক্রিয়ার সাথে হালকা ম্যাসাজও করা যেতে
পারে, যা আরও কার্যকর হয়। হিট প্যাক পেটের পেশি শিথিল করার পাশাপাশি
হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
গরম সেঁক শুধু গ্যাসজনিত ব্যথা কমাতেই নয়, বরং কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমজনিত
অস্বস্তি কমাতেও উপকারী। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ
ও সহজ পদ্ধতি। তবে খুব বেশি গরম সেঁক ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে ত্বকে
জ্বালা বা ক্ষতি হতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে গরম সেঁক ব্যবহার করলে
পেটে গ্যাসের কারণে হওয়া ব্যথা কমে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
খাবারের অভ্যাস পরিবর্তনে গ্যাস প্রতিরোধ একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর ঘরোয়া
পদ্ধতি। অনেক সময় পেটে গ্যাস জমে যায় কারণ আমরা দ্রুত খাবার খাই,
অনিয়মিত সময়ে খাই বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ করি। সঠিক
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা পেটের হজমশক্তি বাড়ায় এবং গ্যাসের সমস্যা
কমাতে সহায়ক।
প্রথমে খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দ্রুত
খাওয়া খাবারের সঙ্গে বাতাস প্রবেশ করে, যা পেটে গ্যাস জমার অন্যতম কারণ।
এছাড়া দিনের খাবারগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে খাওয়া ভালো। একসাথে অনেক
খাবার খাওয়ার পরিবর্তে এক সময়ে ছোট পরিমাণ খাবার খেলে হজম সহজ হয়।
তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড এবং অত্যধিক সোডিয়ামযুক্ত খাবার এড়ানোও
গ্যাস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। সবজি, দই, জিরা বা পুদিনা জাতীয় হজমবান্ধব খাবার
বেশি খাওয়া উচিত। পানির পরিমাণ বাড়ানো, হালকা ব্যায়াম করা এবং খাবারের
পর বিশ্রাম নেওয়া গ্যাস প্রতিরোধে সহায়ক।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে পেটে গ্যাস জমা কমে,
হজমশক্তি উন্নত হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি দূর হয়। তাই সুস্থ থাকার
জন্য খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।
শেষকথাঃ পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
পেটে গ্যাস জমে গেলে যে অস্বস্তি, ব্যথা ও ফাঁপা অনুভূতি হয়, তা অনেক সময়
দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। তবে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলে এই
সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। গরম পানি, আদা, জিরা, হিং, মৌরি, দই,
পুদিনা, হালকা হাঁটা ও ব্যায়াম, গরম সেঁক এবং সঠিক খাবারের অভ্যাস-এই
পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে পেটের হজমশক্তি বাড়ে এবং গ্যাসের সমস্যা
কমে।
প্রাকৃতিক ও সহজ এই উপায়গুলো ব্যবহার করলে ওষুধের উপর অপ্রয়োজনীয়
নির্ভরশীলতা কমে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় থাকে। নিয়মিত
অভ্যাস গড়ে তোলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা এবং প্রাকৃতিক উপায়গুলো
ব্যবহার করা-এসব মিলিয়ে পেটে গ্যাসের ব্যথা কমানো সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যের
সুস্থতা বজায় রাখতে এবং দৈনন্দিন জীবন নির্বিঘ্ন রাখতে পেটে গ্যাসের ব্যথা
কমানোর জন্য় ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে সচেতন থাকা অপরিহার্য।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url