হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়

 

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক। তবে ফেসবুক এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় ফেসবুক অনেক ভাবে আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে।ফেসবুক এখন আমাদের পরিচয়, আমাদের ব্যবসার জায়গা অথবা স্মৃতির ভান্ডার।

তবে অনেক সময় আমাদের অসাবধানতার কারণে, ইমেল বা পাসওর্য়াড ভুলে যাওয়ার কারণে, মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার কারণে অথবা অন্য কোনো কারনে ফেসবুক আইডি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। তবে তা আবার ফিরিয়ে পাওয়া সম্ভব কীভাবে তা জানতে হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

পেজ সুচিপত্রঃ হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় পোস্টটিতে আমরা যা যা জানতে পাড়বো

ফেসবুক আইডি হারানোর সাধারণ কারণ

বর্তমান সময়ে ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যোগাযোগ, ব্যবসা, তথ্য আদান-প্রদান সবকিছুতেই ফেসবুকের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা তাদের ফেসবুক আইডি হারিয়ে ফেলেন বা লগইন করতে পারেন না। নিচে ফেসবুক আইডি হারানোর সাধারণ কারণগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ফেসবুক আইডি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া। অনেকেই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, কিন্তু তা সংরক্ষণ না করায় পরে মনে রাখতে পারেন না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন লগইন না করলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। আরেকটি বড় কারণ হলো ইমেইল বা মোবাইল নম্বর পরিবর্তন। আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল বা নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা ভুলে গেলে রিকভারি কোড পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ফলে আইডিতে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।

হ্যাকিং বা ফিশিং আক্রমণ ফেসবুক আইডি হারানোর একটি ভয়ংকর কারণ। ভুয়া লিংক, নকল লগইন পেজ বা সন্দেহজনক অ্যাপে লগইন করলে হ্যাকার সহজেই আইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। অনেক সময় ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করার কারণেও আইডি লক বা ডিজেবল হয়ে যায়। যেমন- ভুয়া নাম ব্যবহার, অতিরিক্ত স্প্যাম পোস্ট, কপিরাইট লঙ্ঘন বা অশালীন কনটেন্ট শেয়ার করা।

এছাড়া নতুন ডিভাইস বা নতুন লোকেশন থেকে বারবার লগইন চেষ্টা, সন্দেহজনক আচরণ, অথবা দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু থাকার পর কোড না পাওয়াও আইডি হারানোর কারণ হতে পারে। সবশেষে বলা যায়, অসতর্ক ব্যবহার, নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং ফেসবুকের নিয়ম না মানাই মূলত ফেসবুক আইডি হারানোর প্রধান কারণ। সচেতন থাকলে এবং সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে এই সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

সঠিক ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার দিয়ে আইডি খোঁজা

ফেসবুক আইডি হারিয়ে গেলে বা লগইন করতে না পারলে প্রথম ও সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সঠিক ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে আইডি খোঁজা। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় যে ইমেইল ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিই মূল পরিচয় হিসেবে কাজ করে। তাই এই তথ্যগুলো সঠিকভাবে জানা থাকলে আইডি উদ্ধার করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

প্রথমে ফেসবুক লগইন পেজে গিয়ে Forgotten password অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর সেখানে ইমেইল ঠিকানা বা মোবাইল নম্বরটি লিখতে বলা হবে। এখানে অবশ্যই সেই ইমেইল বা নম্বরটি দিতে হবে, যেটি আইডির সাথে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। সঠিক তথ্য দিলে ফেসবুক সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইডিটি খুঁজে বের করে দেখাবে।

যদি একাধিক আইডির সাথে একই ইমেইল বা নম্বর যুক্ত থাকে, তাহলে ফেসবুক সবগুলো আইডির তালিকা দেখাতে পারে। সেখান থেকে নিজের প্রোফাইল ছবি বা নাম দেখে সঠিক আইডিটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর পাসওয়ার্ড রিসেট করার জন্য একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয় ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে।

অনেক সময় দেখা যায়, পুরোনো ইমেইল বা নম্বরে আর অ্যাক্সেস নেই। সে ক্ষেত্রে আগে সেই ইমেইল পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা উচিত অথবা ফেসবুকের বিকল্প রিকভারি অপশন ব্যবহার করতে হবে। তবে সঠিক ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার থাকলে এই ঝামেলা সাধারণত হয় না।

সবশেষে বলা যায়, ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে ব্যবহৃত ইমেইল ও মোবাইল নম্বর সবসময় আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে ভবিষ্যতে আইডি হারালেও সহজেই তা ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়।

Forgot Password অপশন ব্যবহার করে আইডি রিকভার

ফেসবুক আইডিতে লগইন করতে না পারলে বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে Forgot Password অপশনটি হলো আইডি রিকভার করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়। এই অপশনটি ফেসবুক নিজেই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য দিয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনে আবার তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারেন।

প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের লগইন পেজে গিয়ে Forgotten password অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি পেজ আসবে, যেখানে আপনার আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল ঠিকানা বা মোবাইল নাম্বার দিতে বলা হবে। সঠিক তথ্য দিলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে দেখাবে।

পরবর্তী ধাপে ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই করার জন্য একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবে। এই কোডটি ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে আসে। কোডটি নির্দিষ্ট ঘরে সঠিকভাবে লিখলে ফেসবুক নিশ্চিত হয় যে আইডিটি আপনারই। এরপর নতুন একটি পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ দেয়। এখানে অবশ্যই আগের পাসওয়ার্ডের চেয়ে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত।

অনেক সময় কোড আসতে দেরি হতে পারে বা পুরোনো নম্বর বা ইমেইলে কোড চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে Try another way বা Didn’t get a code? অপশন ব্যবহার করে বিকল্প রিকভারি পদ্ধতি নির্বাচন করা যায়। সবশেষে, Forgot Password অপশন ব্যবহার করে আইডি রিকভার করার পর অবশ্যই সিকিউরিটি সেটিংস চেক করা উচিত। যেমন- নতুন ইমেইল বা মোবাইল নম্বর যোগ করা, দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু করা। এতে ভবিষ্যতে আবার আইডি হারানোর ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

বিশ্বস্ত বন্ধুর সাহায্যে আইডি ফেরত পাওয়া

ফেসবুক আইডিতে লগইন করতে না পারলে বা ইমেইল ও মোবাইল নম্বরে অ্যাক্সেস না থাকলে বিশ্বস্ত বন্ধুর সাহায্যে আইডি ফেরত পাওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি। ফেসবুকের এই ফিচারটি মূলত Trusted Contacts নামে পরিচিত, যা আগে থেকেই সেট করা থাকলে জরুরি সময়ে খুব কাজে আসে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হলে প্রথমে ফেসবুক লগইন পেজে গিয়ে Forgotten password? অপশনে ক্লিক করতে হয়। এরপর আপনার আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল বা মোবাইল নম্বর দিলে, যখন সেখানে আর অ্যাক্সেস নেই এমন পরিস্থিতি আসে, তখন ফেসবুক No longer have access to these অপশন দেখায়। সেখানে ক্লিক করলে বিশ্বস্ত বন্ধুদের মাধ্যমে আইডি রিকভারের সুযোগ পাওয়া যায়।

এরপর ফেসবুক আপনার নির্বাচিত ৩-৫ জন বিশ্বস্ত বন্ধুর নাম দেখাতে পারে। এই বন্ধুরা আগে থেকেই আপনার অ্যাকাউন্টে Trusted Contact হিসেবে সেট করা থাকতে হবে। ফেসবুক প্রত্যেক বন্ধুকে একটি করে বিশেষ লিংক বা কোড পাঠায়। আপনাকে সেই বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোডগুলো সংগ্রহ করতে হবে। সব কোড সঠিকভাবে ফেসবুকে সাবমিট করলে আপনার পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়।

পরিচয় যাচাই শেষ হলে ফেসবুক আপনাকে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ দেয় এবং ধীরে ধীরে আইডির পূর্ণ অ্যাক্সেস ফিরিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বন্ধুরা যেন সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য ও সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারী হন। সবশেষে বলা যায়, আগে থেকেই বিশ্বস্ত বন্ধু সেট করে রাখলে ফেসবুক আইডি হারালেও বড় সমস্যায় পড়তে হয় না। তাই নিরাপত্তার জন্য এখনই Trusted Contacts অপশনটি সেট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

পরিচয়পত্র দিয়ে ফেসবুক ভেরিফিকেশন 

ফেসবুক আইডি লক, ডিজেবল বা হ্যাক হওয়ার পর সাধারণ রিকভারি পদ্ধতিতে কাজ না হলে পরিচয়পত্র দিয়ে ফেসবুক ভেরিফিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর উপায়। এই পদ্ধতিতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় যাচাই করে আইডির মালিকানা নিশ্চিত করে।

সাধারণত যখন ফেসবুক সন্দেহজনক কার্যকলাপ, নীতিমালা ভঙ্গ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে আইডি লক করে দেয়, তখন পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার অপশন দেখায়। ব্যবহারকারীকে ফেসবুকের অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন ফর্মে গিয়ে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা জন্মনিবন্ধন সনদ এর স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হয়।

পরিচয়পত্র আপলোড করার সময় কয়েকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটি যেন পরিষ্কার, ঝাপসা না হয় এবং নাম ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরিচয়পত্রে থাকা নাম অবশ্যই ফেসবুক আইডির নামের সাথে মিল থাকতে হবে। বড় ধরনের অমিল থাকলে ভেরিফিকেশন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পর ফেসবুক সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে তথ্য যাচাই করে। যাচাই সফল হলে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয় এবং আইডিতে আবার প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করতে বলা হয়।

সবশেষে বলা যায়, পরিচয়পত্র দিয়ে ফেসবুক ভেরিফিকেশন একটি নিরাপদ ও অফিসিয়াল পদ্ধতি। তবে ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে নিজের আসল নাম ব্যবহার করা, সঠিক তথ্য দেওয়া এবং আইডির নিরাপত্তা সেটিংস ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

হ্যাক হওয়া আইডি রিকভার করার অফিসিয়াল পদ্ধতি

বর্তমান সময়ে ফেসবুক হ্যাক হওয়া একটি সাধারণ কিন্তু ভয়ংকর সমস্যা। হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিলে ব্যবহারকারী নিজের আইডিতে আর ঢুকতে পারেন না। তবে ফেসবুকের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চললে হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় হিসেবে অফিসিয়াল রিকভারি পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

হ্যাক হওয়া আইডি রিকভার করার জন্য প্রথমেই ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজে গিয়ে facebook.com/hacked অপশন ব্যবহার করতে হয়। সেখানে Someone else got into my account নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। এরপর আপনার ফেসবুক আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল বা মোবাইল নাম্বার দিতে বলা হবে। সঠিক তথ্য দিলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করবে। পরবর্তী ধাপে ফেসবুক আপনাকে একটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে যাবে।

এখানে ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে একটি সিকিউরিটি কোড পাঠানো হয়। কোডটি সঠিকভাবে প্রবেশ করালে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ পাবেন। নতুন পাসওয়ার্ড অবশ্যই আগের পাসওয়ার্ডের থেকে আলাদা ও শক্তিশালী হওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকার ইমেইল বা নম্বরও পরিবর্তন করে দেয়। তখন ফেসবুক বিকল্পভাবে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরিচয়পত্র আপলোড করতে বলতে পারে। যাচাই সফল হলে ফেসবুক ধাপে ধাপে আইডির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়। 

সবশেষে, হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় হিসেবে অফিসিয়াল পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো শর্টকাট বা তৃতীয় পক্ষের সেবায় বিশ্বাস করা উচিত নয়। রিকভারি শেষে অবশ্যই দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু করা এবং সিকিউরিটি সেটিংস আপডেট রাখা জরুরি।

ফেসবুক রিকভারি ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করার কৌশল

ফেসবুক আইডি হারিয়ে গেলে বা হ্যাক, লক কিংবা ডিজেবল হয়ে গেলে ফেসবুক রিকভারি ফর্ম হলো আইডি ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল মাধ্যম। তবে অনেকেই ফর্মটি ভুলভাবে পূরণ করার কারণে রিকভারি ব্যর্থ হন। সঠিক কৌশল মেনে ফর্ম পূরণ করলে আইডি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

প্রথমেই রিকভারি ফর্মে যে তথ্যগুলো চাওয়া হয়- যেমন নাম, ইমেইল, মোবাইল নম্বর- সবকিছু ফেসবুক আইডিতে ব্যবহৃত তথ্য অনুযায়ী দিতে হবে। নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্য যেন আইডির সাথে মিল থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভুল বা অনুমানভিত্তিক তথ্য দিলে ফেসবুক যাচাই বাতিল করতে পারে।

রিকভারি ফর্মে সমস্যার ধরন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- আইডি হ্যাক হয়েছে, লগইন করা যাচ্ছে না, ইমেইলে অ্যাক্সেস নেই ইত্যাদি। সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় সমস্যাটি লিখলে ফেসবুক টিম সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে।

যদি পরিচয়পত্র আপলোড করার অপশন থাকে, তাহলে অবশ্যই স্পষ্ট ও পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হবে। ছবিতে নাম ও জন্মতারিখ পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে হবে এবং কোনো ধরনের এডিট বা কাটাছেঁড়া করা যাবে না। পরিচয়পত্রে থাকা নাম ফেসবুক আইডির নামের সাথে মিল থাকা খুব জরুরি।

ফর্ম সাবমিট করার পর বারবার নতুন ফর্ম পাঠানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে ফেসবুক সিস্টেম বিভ্রান্ত হতে পারে এবং রেসপন্স পেতে দেরি হয়। ধৈর্য ধরে ইমেইল চেক করতে হবে। সবশেষে বলা যায়, সততা, ধৈর্য এবং সঠিক তথ্যই ফেসবুক রিকভারি ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করার মূল।

পুরোনো ডিভাইস বা লোকেশন ব্যবহার করে লগইন চেষ্টা

ফেসবুক আইডিতে হঠাৎ লগইন করতে না পারলে পুরোনো ডিভাইস বা লোকেশন ব্যবহার করে লগইন চেষ্টা করা একটি কার্যকর কৌশল। ফেসবুক নিরাপত্তার জন্য ব্যবহারকারীর ডিভাইস, ব্রাউজার ও লোকেশন ট্র্যাক করে রাখে। তাই যেসব মোবাইল, কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে আগে নিয়মিত লগইন করা হতো, সেগুলো ব্যবহার করলে আইডি শনাক্ত করা ফেসবুকের জন্য সহজ হয়।

যদি সম্ভব হয়, আগে যে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ থেকে ফেসবুক ব্যবহার করতেন, সেটি দিয়েই লগইন করার চেষ্টা করুন। একই সঙ্গে আগে যে ব্রাউজার ব্যবহার করতেন সেটিও ব্যবহার করা ভালো। অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো ডিভাইস চিনে নিয়ে অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন ছাড়াই লগইনের অনুমতি দেয়।

লোকেশনের বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত যেই এলাকা বা নেটওয়ার্ক থেকে নিয়মিত লগইন করা হতো, সেই একই লোকেশন থেকে চেষ্টা করলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভিন্ন দেশ বা নতুন নেটওয়ার্ক থেকে বারবার লগইন চেষ্টা করলে ফেসবুক সন্দেহজনক কার্যকলাপ হিসেবে ধরে নিতে পারে এবং আইডি সাময়িকভাবে লক করে দিতে পারে।

পুরোনো ডিভাইস বা লোকেশন ব্যবহার করে লগইন করার সময় Forgot Password অপশন ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। কারণ ফেসবুক তখন সহজে বুঝতে পারে যে প্রকৃত মালিকই আইডি রিকভার করার চেষ্টা করছেন। সবশেষে বলা যায়, ফেসবুক আইডি রিকভারের ক্ষেত্রে পুরোনো ডিভাইস ও পরিচিত লোকেশন ব্যবহার করা একটি নিরাপদ ও বুদ্ধিমান পদক্ষেপ, যা আইডি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

ফেসবুক সাপোর্ট ইনবক্সে রিপোর্ট করার নিয়ম

ফেসবুক আইডি হারানো বা হ্যাক হওয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুক সাপোর্ট ইনবক্সে রিপোর্ট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল পদ্ধতি। এটি ব্যবহার করে আপনি সরাসরি ফেসবুকের সাপোর্ট টিমকে আপনার সমস্যার তথ্য জানাতে পারেন এবং আইডি রিকভারের জন্য নির্দেশনা পেতে পারেন।

প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গিয়ে Help বা Support - Report a Problem অপশনটি খুঁজুন। এখানে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার ক্যাটাগরি দেওয়া থাকে। আপনার সমস্যা অনুযায়ী Hacked or Fake Account বা Login Issue নির্বাচন করতে হবে।

রিপোর্ট করার সময় সমস্যাটি সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার এবং সঠিক তথ্যসহ লিখুন। যেমন- আইডি হ্যাক হয়েছে, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে, ইমেইল বা মোবাইল নম্বরে অ্যাক্সেস নেই ইত্যাদি। তথ্য সঠিক হলে ফেসবুক দ্রুত বিষয়টি যাচাই করতে পারে। যদি ফেসবুককে কোনও প্রমাণ দেওয়া যায়, যেমন পরিচয়পত্র বা পুরোনো লগইন তথ্য, তা সংযুক্ত করা ভালো। এতে ফেসবুক টিম নিশ্চিত হয় যে আইডির প্রকৃত মালিকই রিপোর্ট করছেন।

রিপোর্ট সাবমিট করার পর ফেসবুক ইনবক্সে আপনাকে আপডেট পাঠায়। এখানে নির্দেশনা অনুসরণ করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা, Trusted Contacts ব্যবহার করা বা অতিরিক্ত যাচাইকরণ করা যায়। রিপোর্ট করার পর বারবার একই সমস্যা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে সিস্টেম বিভ্রান্ত হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ফেসবুক সাপোর্ট ইনবক্সে রিপোর্ট করা হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অফিসিয়াল এবং নিরাপদ পদ্ধতি। সতর্কতা ও সঠিক তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করলে আইডি রিকভারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানো থেকে বাঁচার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফেসবুক আইডি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানো থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা খুবই জরুরি। সামান্য অসতর্কতার কারণে আইডি হ্যাক, লক বা ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। নিচে কার্যকর উপায়গুলো তুলে ধরা হলো।

১.শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করলে তা সহজে অনুমান করা যায় না। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাপে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

২.অবশ্যই দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অতিরিক্ত কোড ছাড়া কেউ আইডিতে ঢুকতে পারবে না।

৩.আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল ও মোবাইল নম্বর সবসময় আপডেট রাখুন এবং সেগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করুন। পুরোনো বা বন্ধ ইমেইল থাকলে দ্রুত পরিবর্তন করা উচিত।

৪.সন্দেহজনক লিংক, ভুয়া অফার বা নকল লগইন পেজে কখনোই ক্লিক করবেন না। এগুলোই হ্যাকিংয়ের প্রধান উৎস।

৫.ফেসবুকের Security and Login সেটিংসে গিয়ে নিয়মিত লগইন অ্যাক্টিভিটি চেক করুন। অচেনা ডিভাইস দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লগআউট করুন।

সবশেষে, নিজের আসল নাম ও সঠিক তথ্য ব্যবহার করুন এবং ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলুন। এসব নিয়ম মানলে ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

শেষকথাঃ হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়

হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায় জানতে ও সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইডি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য অফিসিয়াল রিকভারি অপশনগুলো-যেমন Forgot Password, বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তা, পরিচয়পত্র দিয়ে ভেরিফিকেশন, রিকভারি ফর্ম এবং সাপোর্ট ইনবক্স-সবই নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।

লেখকের মতামত, ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু রাখা, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর আপডেট রাখা এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। সচেতন ব্যবহার ও নিয়ম মেনে চললে ফেসবুক আইডি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url